Tanzimul Millat Residential Madrasah
Tanzimul Millat Residential Madrasah

একাডেমিক নীতিমালা

আমরা মনে করি, প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের জ্ঞানার্জন ও জ্ঞান চর্চার স্থান। প্রতিষ্ঠানের নিয়মসমূহ ধীরে ধীরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাধারণ সৌজন্যতা, ভদ্রতা, অন্যদের সম্মান, আত্মশাসন, দায়িত্বশীলতা সৃষ্টির পাশাপাশি সৃজনশীল মনন তৈরি করতে সাহায্য করে।

 

আবাসিক নিয়মাবলী

  • পাঁচ ওয়াক্ত সালাত জামায়াতের সাথে পড়তে হবে।
  • নিজের রুম, সিট, জামা-কাপড় গুছিয়ে ও পরিষ্কার রাখতে হবে।
  • মাদরাসায় প্রবেশ ও বাহির হতে অবশ্যই পাঞ্জাবী, টুপি ও পায়জামা পরিহিত থাকতে হবে।
  • প্রতিষ্ঠানের কোনো আসবাবপত্র বা সম্পদ নষ্ট করলে ক্ষতিপূরণ/জরিমানা দিতে হবে।
  • মোবাইলসহ যেকোনো ধরনের ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস রাখা ও বহন করা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ।
  • কোনো সমস্যা হলে আবাসিক টিচারকে অথবা কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবে।
  • শিক্ষার্থীর নিকট কোন টাকা-পয়সা রাখা যাবে না।
  • অফিস এবং শিক্ষকদের রুমে প্রবেশের সময় অনুমতি নিতে হবে।
  • যথাসময়ে খাদ্য গ্রহণ করতে হবে।
  • মাদরাসা ত্যাগ এবং মাদরাসায় প্রবেশের সময় অফিসে দেখা করতে হবে।
  • কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কাউকে নিজের রুমে প্রবেশ করানো যাবে না।
  • আবাসিক ছাত্রদের সিট বিন্যাস কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করবেন। এক্ষেত্রে অভিভাবকের কোনো এখতিয়ার থাকবে না।
  • ডিসেম্বর মাসের পূর্বে সিট ছাড়লে ডিসেম্বর পর্যন্ত বেতন পরিশোধ করতে হবে।
  • ক্লাস ও বিশেষ ক্লাস চলাকালীন সময়ে কোনো অভিভাবক ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে দেখা করতে পারবে না।
  • আবাসিক ছাত্রদের সিট পরিবর্তন এবং বাতিল করার ক্ষমতা কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করবেন।
  • অশালীন ও ইসলাম পরিপন্থি পোশাক-পরিচ্ছদ ব্যবহার করা যাবে না।
  • চুল সর্বদা চতুর্দিকে সমান করে কাটতে হবে।

 

অনাবাসিক নিয়মাবলী

  • অভিভাবকগণ যথাসময়ে মাদরাসায় শিক্ষার্থীর আসা-যাওয়া নিশ্চিত করবেন।
  • শিক্ষার্থীর ছুটিকালীন সময়ে কোন প্রকার ক্ষতি হলে অথবা নিয়ম বর্হিভূত কাজ করলে কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না।
  • শিক্ষার্থীকে মাদ্‌রাসা কর্তৃক নির্ধারিত ইউনিফর্ম পরিধান করে ক্লাসে আসতে হবে।
  • অভিভাবক নিজ দায়িত্বে বাসায় পড়ালেখার ব্যবস্থা করবেন।
  • কোনো সমস্যা হলে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন।
  • শিক্ষার্থীর ছুটি প্রয়োজন হলে (অগ্রিম নির্ধারিত দরখাস্তের) মাধ্যমে ছুটি নিবেন।
  • বাসায় শিক্ষার্থীর জন্য ইসলামী পরিবেশের ব্যবস্থা করবেন।
  • প্রতিদিন ডায়েরি দেখে ক্লাসের পড়া জেনে নিবেন।
  • প্রতিদিনের CW, HW খাতা চেক করবেন।
  • ছাত্রের CT, MT প্রস্তুতির প্রতি নজর রাখবেন এবং CT, MT রেজাল্ট জানার চেষ্টা করবেন।
  • সিলেবাস দেখে ‘আখলাকে হাসানা’ বিষয়গুলোর প্রতি ছাত্রকে উৎসাহিত করবেন।
  • মহিলা অভিভাবক পর্দাসহকারে মাদরাসায় আগমন করবেন।
  • অভিভাবক সমাবেশে হাজির থাকবেন এবং গুরুত্বপূর্ণ মতামত প্রদান করবেন।
  • যথাসময়ে শিক্ষার্থীকে অ্যাসেম্বলিতে অংশগ্রহণ করতে হবে।

 

বহিষ্কার/বাধ্যতামূলক ছাড়পত্র সংক্রান্ত নীতিমালাঃ

  • কোনো শিক্ষার্থী মাদরাসার স্বার্থ বিরোধী কাজে জড়িত থাকলে তাকে বহিষ্কার করা হবে।
  • মাদরাসার আইন-শৃঙ্খলা পরিপন্থি কোন কাজ করলে বহিষ্কার করা হবে।
  • কোনো শিক্ষার্থী প্রযোজ্য বিধি-বিধান ভঙ্গ করলে তাকে বহিষ্কার করা হবে।
  • মাদরাসায় দ্বীনি পরিবেশ বজায় রাখতে অপারগ হলে বহিষ্কার করা হবে।
  • পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন করলে বহিষ্কার করা হবে।
  • পরীক্ষায় বারবার রেজাল্ট খারাপ করলে ছাড়পত্র দিয়ে দেয়া হবে।
  • কোনো শিক্ষার্থী বিনা কারণে অথবা বিনা অনুমতিতে ১ মাস মাদরাসায় অনুপস্থিত থাকলে তার ভর্তি বাতিল হয়ে যাবে।
  • কোনো শিক্ষার্থীর নৈতিক চরিত্রের (অশ্লীল কথাবার্তা বা আচার-আচরণ) অবনতির জন্য তাকে বহিষ্কার করা হবে।
  • ভর্তি পরবর্তী সময়ে কোনো শিক্ষার্থীর ছোঁয়াচে অথবা বিকৃত রোগ (যা অন্যদের জন্য ক্ষতিকর) ধরা পড়লে তার ভর্তি সাময়িক/স্থায়ীভাবে বাতিল করা হবে।
  • কোনো শিক্ষার্থী নিয়মিত বাড়ির কাজ না করলে, পড়া না পারলে, অপরিচ্ছন্ন থাকলে, ক্লাসে বই খাতা নিয়ে না আসলে ইত্যাদি কারণে তাকে ছাড়পত্র দিয়ে দেয়া হবে।

 

ভর্তিকৃত ছাত্রের প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের নিয়মাবলীঃ

  • কোনো শিক্ষার্থীর ভর্তিকার্য সম্পন্ন হওয়ার পর প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের ইচ্ছা করলে ভর্তি বাবদ প্রদেয় অর্থের কোনো টাকা ফেরত পাবে না। এক্ষেত্রে চলতি মাসের মাসিক ফি পরিশোধ করে ছাত্রের অভিভাবক টিসি গ্রহণ করবেন। তবে অগ্রিম কোনো টাকা জমা থাকলে তা ফেরত পাবেন।
  • কোনো শিক্ষার্থী সেশনের ৬ মাস অতিবাহিত হওয়ার পর প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন করতে চাইলে কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদনপূর্বক যাবতীয় পাওনা পরিশোধ করে টিসি গ্রহণ করতে পারবে।
  • কোনো শিক্ষার্থী সেশনের ৯ মাস অতিবাহিত হওয়ার পর চলে যাওয়ার ইচ্ছা করলে তাকে সেশনের বাকি তিন মাসের সকল পাওনা পরিশোধপূর্বক কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদনপত্র দাখিল করে টিসি গ্রহণ করতে পারবে।
  • প্রতিষ্ঠানের নিয়ম-শৃঙ্খলা ভঙ্গ করার অপরাধে কোনো শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হলে তার ক্ষেত্রেও এ নিয়ম সমভাবে প্রযোজ্য।
  • কোনো শিক্ষার্থী কর্তৃপক্ষের অজ্ঞাতসারে মাদরাসা থেকে চলে গেলে এর দায়-দায়িত্ব প্রতিষ্ঠান বহন করবে না।

 

ছুটি সংক্রান্ত নিয়মাবলীঃ

  • বছরের শুরুতে ছুটির তালিকা এবং একাডেমিক ক্যালেন্ডার সরবরাহ করা হয়। ২/৩ দিন করে মাসিক ছুটি দেওয়া হয়।
  • ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে ১০ দিন ও ঈদুল আযহা উপলক্ষ্যে ১০ দিন ছুটি।
  • পরীক্ষা উপলক্ষ্যে ছুটি দেওয়া হয়।
  • বিশেষ প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠান প্রধানের বরাবর দরখাস্তের মাধ্যমে ছুটি নেওয়া যায়।
  • নতুন ছাত্রদের ক্ষেত্রে ভর্তির পর থেকে ২ মাস পর্যন্ত ১ সপ্তাহ পর পর বাদ আসর থেকে জুমাবার মাগরিবের পূর্ব পর্যন্ত ছুটি নেওয়া যাবে।
  • হিফযের ছাত্রদের জন্য বেশি বেশি ছুটি তাদের পড়ালেখার জন্য ক্ষতিকর।

 

সংশোধন পদ্ধতিঃ

  • শিক্ষার্থীকে সংশোধন করার জন্য যা করা হবে-
  • যুগোপযোগী কৌশল অবলম্বন।
  • নিয়মতান্ত্রিক নসিহা প্রোগ্রাম।
  • ব্যক্তিগতভাবে মোটিভেশন করা।
  • ত্রুটিপূর্ণ বিষয়ে বিশেষ নজর ও সতর্ক করা।
  • এরপরও পরিবর্তন না হলে প্যাটার্ন চেঞ্জ করে চেষ্টা অব্যাহত রাখা।
  • সর্বোপরি দু’আ ও দাওয়াহ জারি রাখা।

 

আবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযোজ্যঃ

  • খাট ও তোষক প্রতিষ্ঠান সরবরাহ করবে।
  • বই, খাতা, ডায়েরি, কলম ও অন্যান্য শিক্ষাসামগ্রী প্রতিষ্ঠান থেকে নির্ধারিত মূল্য পরিশোধ করার মাধ্যমে সংগ্রহ করতে হবে।
  • নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ি পোশাক ও অন্যান্য দ্রব্যাদি অভিভাবক সরবরাহ করবেন

 

অভিভাবকদের জ্ঞাতব্য বিষয়ঃ

  • অভিভাবকগণ প্রতিষ্ঠানের নিয়ম-কানুন সম্পর্কে অবহিত হবেন।
  • হিফয শিক্ষা সম্পর্কে জ্ঞান রাখবেন।
  • কোনো সমস্যা দেখলে সরাসরি প্রতিষ্ঠান প্রধানকে অবহিত করবেন।
  • শিক্ষার্থীকে প্রতিষ্ঠানের সকল নিয়ম-কানুন মেনে চলতে সহযোগিতা করবেন।
  • মাদরাসার কোনো নিয়ম-কানুন ও শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন।
  • মহিলা অভিভাবকগণ পর্দা সহকারে মাদরাসায় আগমন করবেন।
  • বাসায় শিক্ষার্থীর জন্য ইসলামী পরিবেশের ব্যবস্থা করবেন।
  • সন্তানের পড়ার অগ্রগতি নিয়ে শিক্ষক ও মাদরাসা প্রধানের সাথে পরামর্শ করবেন।
  • সন্তানকে নির্ধারিত সময়ে মাদরাসায় পৌঁছাবেন এবং মাদরাসা থেকে নিয়ে যাবেন।
  • বিভিন্ন প্রোগ্রামে উপস্থিত থাকবেন।
  • নির্ধারিত নিয়মে যাবতীয় পাওনা পরিশোধ করবেন।
  • নিজ সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্যে আপনাদের ব্যক্তিগত বিভিন্ন অনুষ্ঠানাদি সন্তানের
  • একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী গ্রহণ করবেন।
  • প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের সাথে সম্মানজনক আচরণ করবেন।
  • মাদরাসার কল্যাণে ভূমিকা পালন করবেন।
  • অভিভাবক নিজেও কুরআন শিক্ষার সাথে সম্পৃক্ত হবেন।
  • প্রতিষ্ঠানের নিয়ম বহির্ভূত কোনো পোশাক বা যন্ত্রপাতি কিংবা খাবার সঙ্গে না আনার বিষয়ে সজাগ দৃষ্টি রাখবেন।
  • ছুটির সাথে সাথে সন্তানকে বাসায় নেওয়ার ব্যবস্থা করবেন।
  • নিয়মিত নোটিশ বোর্ডের বিভিন্ন নোটিশ/নির্দেশনা দেখবেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।